ভিসা প্রতারণার ফাঁদে সৌদি আরবে বন্দী বোরহানউদ্দিন সহ বিভিন্ন জায়গার একাধিক যুবক

ভিসা প্রতারণার ফাঁদে সৌদি আরবে বন্দী বোরহানউদ্দিন সহ বিভিন্ন জায়গার একাধিক যুবক

উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরব গিয়ে চরম প্রতারণা ও অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুতুবা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের যুবক নকিব হাওলাদার। ফুড ডেলিভারি পদের কথা বলে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে তাকে সেখানে একটি ছোট ঘরে বন্দী করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পিতা রুহুল আমিন বোরহানউদ্দিন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

লিখিত অভিযোগে জানা যায়, বোরহানউদ্দিনের টবগী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মজনু হাওলাদার ও রিপন হাওলাদার নামের দুই দালালের মাধ্যমে প্রায় দুই বছর আগে নকিব সৌদি আরবে যান। এজন্য দালালের হাতে নগদ ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা তুলে দেয় তার পরিবার। পরবর্তীতে আরও দফায় দফায় টাকা দিয়ে মোট ৫ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। কথা ছিল সৌদি আরবে নকিবকে একটি ফুড ডেলিভারি কোম্পানিতে চাকরি দেওয়া হবে।

কিন্তু নকিব সেখানে পৌঁছানোর পর জানা যায়, ওই নামের কোনো কোম্পানির বাস্তব কোনো অস্তিত্বই নেই। এরপর থেকেই মজনু ও রিপন চক্রের নির্দেশে তাদের স্থানীয় সহযোগীরা নকিবকে একটি ছোট ঘরে বন্দী করে রাখে। ঠিকমতো খাবার-দাবার না দিয়ে কাজের কথা বললেই তার ওপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। এমনকি তার ফোন ও পাসপোর্টও কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

নকিবের পরিবার জানায়, সৌদি আরবে তাদের ছেলের এই দুরবস্থার কথা জানতে পেরে তারা বাংলাদেশে দালাল চক্রের মুখোমুখি হলে, দালালরা নকিবকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিনিময়ে আরও ৫ লাখ টাকা দাবি করে। এ নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে থানায় এক সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দালাল মজনু স্বীকার করে যে সে একাই সব টাকা খায়নি এবং ঘটনার সত্যতা পেয়ে সালিশে সিদ্ধান্ত হয় ১ মাসের মধ্যে নকিবকে অন্য চাকুরিতে নিয়োগ দেওয়া হবে, অন্যথায় মূল টাকা এবং বিগত দুই বছরের চাকুরির ক্ষতিপূরণ দিতে দালাল চক্র বাধ্য থাকবে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সালিশের এই সিদ্ধান্ত অমান্য করে দালাল মজনু ও রিপন আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। নকিবের খোঁজ নিতে যাওয়া স্থানীয়দের তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। শুধু তাই নয়, নির্যাতনের শিকার নকিব যাতে আইনের আশ্রয় নিতে না পারে, সেজন্য সৌদি আরবে তার বিরুদ্ধে ১০ হাজার রিয়ালের একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করিয়েছে এই আন্তর্জাতিক চক্রটি।

সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো, দালাল চক্রটি এখন প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে যে, নকিব যদি কোনোভাবে বাংলাদেশে ফেরত আসে তবে তাকে গুম করে ফেলা হবে। প্রয়োজনে ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতি স্বীকার করে জরিমানা দেবে, তাও তাকে গুম করার হুমকি দিচ্ছে তারা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুধু নকিবই নন এই চক্রটির সুনির্দিষ্ট প্রতারণার শিকার হয়েছেন মোঃ সাখাওয়াত, মো: আল-আমিন, মোঃ সোহান, মোঃ সোহাগসহ আরও অনেক অসহায় যুবক।

এই আন্তর্জাতিক মানবপাচার ও নির্যাতনকারী চক্রের খপ্পর থেকে সন্তানদের অক্ষত অবস্থায় দেশের মাটিতে ফিরিয়ে আনতে এবং প্রতারক মজনু ও রিপনকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *