বিশ্বকাপ ঘিরে বাড়ছে ক্রিপ্টো জালিয়াতি, সতর্ক করল মার্কিন কর্তৃপক্ষ

বিশ্বকাপ ঘিরে বাড়ছে ক্রিপ্টো জালিয়াতি, সতর্ক করল মার্কিন কর্তৃপক্ষ

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ফুটবলপ্রেমীদের লক্ষ্য করে ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক প্রতারণা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক করে জানিয়েছে, ভুয়া টিকিট বিক্রি, নকল ওয়েবসাইট এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিতে অর্থ পরিশোধের ফাঁদ ব্যবহার করে প্রতারক চক্র অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফস ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, প্রতারকরা ফিফার অফিসিয়াল সেবার আদলে তৈরি করা ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রচারণার মাধ্যমে ভুয়া বিশ্বকাপ টিকিট, আতিথেয়তা প্যাকেজ, পণ্যসামগ্রী, স্ট্রিমিং সাবস্ক্রিপশন এবং ক্রীড়া বাজির বিভিন্ন অফার প্রচার করছে।

আগামী ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই ক্রীড়া আসরে লাখো দর্শক ও পর্যটকের সমাগম হওয়ার কথা রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে প্রতারণার ঝুঁকিও বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্লকচেইন বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান চেইনঅ্যানালাইসিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরেই বিশ্বজুড়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত চুরির পরিমাণ প্রায় ৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, প্রতারণার অন্যতম বড় লক্ষণ হলো বিক্রেতার পক্ষ থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সি, ব্যাংক ওয়্যার ট্রান্সফার, গিফট কার্ড অথবা বিভিন্ন পিয়ার-টু-পিয়ার পেমেন্ট অ্যাপের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের অনুরোধ। এসব মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর পর তা ফেরত পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

এ কারণে দর্শকদের শুধুমাত্র ফিফার অনুমোদিত ও অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম থেকে টিকিট কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মেসেজিং অ্যাপ, এসএমএস কিংবা স্পন্সর করা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পাওয়া লিংকের ওপর নির্ভর না করার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ভুয়া ফিফা বিশ্বকাপ ওয়েবসাইটে ব্যক্তিগত তথ্য চুরির আশঙ্কা

শুধু ভুয়া টিকিট বিক্রিই নয়, ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ঘটনাও বাড়ছে। শেরিফস ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, প্রতারকরা ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের সঙ্গে অত্যন্ত সাদৃশ্যপূর্ণ নকল ওয়েবসাইট তৈরি করছে, যেখানে ব্যবহারকারীদের লগইন তথ্য, ব্যাংকিং তথ্য এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার প্রতারকদের কাজ আরও সহজ করে দিয়েছে। এআই-এর মাধ্যমে তারা দ্রুত বিশ্বাসযোগ্য ব্র্যান্ডের অনুকরণে ওয়েবসাইট তৈরি এবং ব্যাপক আকারে ফিশিং অভিযান পরিচালনা করতে পারছে।

এদিকে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর সাইবার বিভাগও বিশ্বকাপকেন্দ্রিক ফিশিং কার্যক্রম সম্পর্কে সতর্কবার্তা দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রতারকরা “টাইপো স্কোয়াটিং” নামে পরিচিত একটি কৌশল ব্যবহার করছে, যেখানে আসল ওয়েবসাইটের মতো দেখতে কিন্তু সামান্য বানান পরিবর্তন করা ডোমেইন ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, এসব ভুয়া ওয়েবসাইটে লগইন বা পেমেন্ট তথ্য প্রদান করলে ব্যবহারকারীদের সংবেদনশীল তথ্য চুরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা পরবর্তীতে পরিচয় জালিয়াতি কিংবা আর্থিক প্রতারণায় ব্যবহার করা হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *