কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা: নিহত ১, আহত ৬০-এর বেশি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। হামলার পর বিমানবন্দর এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়।
হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংস্থাটির দাবি, ইরানের একটি তেলবাহী জাহাজ এবং কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে এ অভিযান চালানো হয়েছে। পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
এর আগে মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, আত্মরক্ষামূলক অভিযানের অংশ হিসেবে তারা ইরানের কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে কেশম দ্বীপের একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনও ছিল বলে দাবি করা হয়। সেন্টকম আরও জানায়, বেসামরিক জাহাজের দিকে অগ্রসর হওয়া তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী, ইরান কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল, যার অধিকাংশই আকাশে প্রতিহত বা ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি বোতসোয়ানা-নিবন্ধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানোর কথাও উল্লেখ করা হয়, যা ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল বলে দাবি যুক্তরাষ্ট্রের।
ঘটনার পর কুয়েত সরকার তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়। দেশটি দুই ইরানি কূটনীতিককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কুয়েত ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে এবং তেহরানের চার্জ দ্য’অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে।
কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় নিহত ব্যক্তি একজন ভারতীয় নাগরিক। এক বিবৃতিতে হামলার নিন্দা জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে আহত ভারতীয় নাগরিকদের বিষয়ে নিবিড়ভাবে নজর রাখা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে ইরান দাবি করেছে, তারা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো প্রচেষ্টার কঠোর মূল্য দিতে হবে।
সর্বশেষ এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। উভয় পক্ষ একে অপরকে দায়ী করলেও কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর বিষয়ে এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, কুয়েতে সংঘটিত এই হামলা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিশ্ববাজারে তেলের দামেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

