যুদ্ধের মাঝে হার না মেনেও বিদায়: বিশ্বকাপের মঞ্চে ইরানের অন্যরকম এক ট্র্যাজেডি

ইরান ফুটবল

দেশজুড়ে চলছে যুদ্ধের ভয়াবহ তাণ্ডব। দখলদার ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র হামলায় লণ্ডভণ্ড চারপাশ। একে একে প্রাণ হারিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতা ও সামরিক কর্মকর্তা। রেহাই পায়নি স্কুল, হাসপাতাল, বাজার, মসজিদ কিংবা নিষ্পাপ শিশুরা। এমন এক চরম অস্থিতিশীল ও যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নিতে উড়াল দিয়েছিল ইরান জাতীয় ফুটবল দল।

কিন্তু মাঠের লড়াই শুরুর আগেই তাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বৈরিতার এক কঠিন দেয়ালের।

বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলতে গেলেও ইরানি ফুটবলারদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল নজিরবিহীন সব কঠোর শর্ত। ফিফা ও বিশ্বকাপের প্রচলিত নিয়ম ভেঙে এক দেশে ম্যাচ এবং অন্য দেশে ক্যাম্প করতে বাধ্য করা হয় মাহদী তারেমিদের।

নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে তাদের ক্যাম্প করতে হয় মেক্সিকোতে। সেখান থেকে ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে তারা উড়ে যেতেন যুক্তরাষ্ট্রে। আবার ম্যাচ শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তড়িঘড়ি করে তাদের ফিরে আসতে হতো মেক্সিকোর ক্যাম্পে।

যুদ্ধের ময়দানের মতো বিশ্বকাপের আয়োজকদের আচরণও যেন ছিল ইরানিদের প্রতি চরম বৈরী। তবে মাঠের ভেতরে সব বাধা ও মানসিক চাপ উপেক্ষা করে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছে ইরান।

গ্রুপ ‘জি’ (Group G)-তে নিজেদের তিন ম্যাচে বেলজিয়াম, মিশর ও নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল তারা। বুক চিতিয়ে লড়াই করে এই তিন ম্যাচের একটিতেও হারেনি তারেমির দল।

কোনো ম্যাচ না হেরেও কেন ইরানকে বিদায় নিতে হলো, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মনে প্রশ্ন জেগেছে। সাধারণত বিশ্বকাপে অপরাজিত থেকেও বিদায় নেওয়ার পেছনে মূল কারণ থাকে পয়েন্ট টেবিলের মারপ্যাঁচ এবং ড্রয়ের সমীকরণ।

গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচের সবকটিতেই ড্র করায় ইরানের ঝুলিতে জমা হয় মাত্র ৩ পয়েন্ট। অন্যদিকে একই গ্রুপের অন্য দলগুলো জয় তুলে নিয়ে পয়েন্ট টেবিলে এগিয়ে যাওয়ায়, এক ম্যাচও না হেরেও কেবল পর্যাপ্ত পয়েন্টের অভাবে গ্রুপ পর্ব থেকেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যেতে হয় বীরত্ব দেখানো এই দলটিকে।

রাজনৈতিক বৈরিতা, কড়া নিষেধাজ্ঞা আর মানসিক যুদ্ধ জয় করে ইরান যেভাবে মাঠে অপরাজিত রইলো, তা ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক অনন্য ও ট্রাজিক অধ্যায় হিসেবে লেখা থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *